দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অবৈধ ডলার লেনদেন ও ই-ট্রানজেকশনের অভিযোগে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট রাফসান জনি রিপনসহ (৩২) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ফোনগুলো তল্লাশি করে অসংখ্য অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্ট, মেইল আইডি এবং বাইন্যান্স অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনাবেচার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতভর মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। পরে শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকার বায়েজিদ ডালিম (৩০), আমঝুপি এলাকার ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (১৯), মুজিবনগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের রকিবুল ইসলাম (৩৫) এবং গাংনী উপজেলার গাড়াডোব এলাকার রাফসান জনি রিপন (৩২)।
প্রেস রিলিজে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল মেহেরপুর সদর থানার চাঁদবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে বায়েজিদ ডালিমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড-৫ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোনটি তল্লাশি করে বাইন্যান্স অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনাবেচা এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া তার ফোনে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি ই-মেইল অ্যাড্রেস পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অপো ও একটি ভিভো মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোন দুটি যাচাই করে অনলাইন জুয়া খেলার জন্য বাইন্যান্সের মাধ্যমে অবৈধ ডলার লেনদেন ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
অপরদিকে, ডিবি পুলিশের আরেকটি দল গাংনী উপজেলার গাড়াডোব এলাকা থেকে রাফসান জনি রিপনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি রেডমি নোট-১৪ প্রো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মোবাইলে ৩৭টি মেইল আইডি এবং ২৯টি অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার আমঝুপি এলাকা থেকে ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি অপো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ফোনেও সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, তারা নিজেদের ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ এবং বাইন্যান্স অ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ই-ট্রানজেকশন করে আসছিলেন।
ডিবি পুলিশের দাবি, তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভের আশায় অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে হতাশা, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর আওতায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
/অ